সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পথে বাধা ডিজিটাল আইন

বাংলাদেশ চিত্র ডেস্ক

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস যৌথভাবে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। 

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে, ৩৯৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২২২টি মামলার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনটি সাংবাদিকদের হয়রানি, ভয় দেখানও ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিককে বিনা অনুমতিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একটি আলোচিত উদাহরণে পুলিশের দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে মামলা মোকদ্দমার মধ্যে পড়তে হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদেরকে নিয়ন্ত্রণ ও নির্যাতনের জন্য রাষ্ট্র বিভিন্ন আইনের ধারা প্রয়োগ করছে। শুধু ডিএসএ বাতিল করলেই সমস্যা সমাধান হবে না, রাষ্ট্রের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি।’

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘এই মামলা কখনও বিচার নিশ্চিত করার জন্য করা হয়নি, বরং সাংবাদিকদের লেখা ও কথা বলার স্বাধীনতা রোধের উদ্দেশ্য ছিল। বর্তমানে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের গাইডলাইন সিআরপিসিতে যুক্ত হয়েছে, তবে বাস্তবায়ন এখনও দুর্বল।’

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া মামলার মধ্যে বেশিরভাগই সাংবাদিক খালাস পেয়েছেন। তবে মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া তাদের ব্যক্তিগত, পেশাগত ও আর্থিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মানবাধিকার এবং তথ্য কমিশনকে সক্রিয় করার মাধ্যমে এই ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি আদালতের বাইরে আনা যায় বলে প্যানেল আলোচকরা উল্লেখ করেছেন।

Share This Article