মন্ত্রিসভায় ঠাই হয়নি ড. রেজা কিবরিয়ার, নবীগঞ্জ-বাহুবলবাসী হতাশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ এএম

স্বাধীনতার পর হবিগঞ্জের চারটি আসনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় হলেও জেলার মধ্যে কোনো এমপি স্থান পাননি মন্ত্রিসভায়। এ নিয়ে জেলাজুড়েই সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটে জয় পাওয়া বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া মন্ত্রী হবেন এমন প্রত্যাশা ছিল সবার মুখে মুখে। নির্বাচনি প্রচারণায়ও এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

কিন্তু বিধিবাম, হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে কাউকেই মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়নি। বাদ পড়েছেন মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলাও। এই ৩টি জেলার সব কটি আসনে স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম ভূমিধস বিজয় অর্জন করে বিএনপি।

এছাড়া আলোচিত ড. রেজা কিবরিয়ার মতো আন্তর্জাতিক মানের অর্থনীতিবিদ হয়েও গঠিত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে হতাশা দেখা গেছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি দেখা যাচ্ছে।

নবীগঞ্জ-বাহুবলবাসী ড. রেজা কিবরিয়াকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে বিএনপিতে যোগ দিয়েই ড. রেজা কিবরিয়া মনোনয়ন পেয়ে চমক দেখান। নির্বাচন চলাকালে সময়ে এলাকায় জোরালোভাবে আলোচনা শুরু হয়, বিএনপি সরকার গঠন করলে ড. রেজা কিবরিয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় ছিল। জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি গণমাধ্যমেও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় তার নাম উঠে আসে।

এতে নবীগঞ্জ-বাহুবলে এক ধরনের প্রত্যাশার পরিবেশ তৈরি হয়। মন্ত্রী পাওয়ার আশায় ভোটারগণও ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটান। কিন্তু বিশাল ভোটের ব্যবধান জয় লাভ করলেও মন্ত্রী সভায় স্থান না পাওয়ায় মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার হতাশায় নেমে আসে।

নির্বাচনি প্রচারণায় ড. রেজা কিবরিয়া, তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উন্নয়ন ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। অবহেলিত নবীগঞ্জ-বাহুবলের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের আশ্বাসের পাশাপাশি মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও প্রচারণায় উঠে আসে।

স্থানীয় অনেক ভোটারের মতে, সরাসরি মন্ত্রিত্ব পেলে এলাকার উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এই বিশ্বাস থেকেই অনেকে তার পক্ষে অবস্থান নেন। ফলাফলেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়। বিপুল ব্যবধানে অর্থাৎ ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

গজনাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সফিউল আলম বজলু বলেন, অর্থমন্ত্রী হওয়ার প্রত্যাশায় সম্মিলিতভাবে ড. রেজা কিবরিয়াকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় তার স্থান না হওয়ায় আমরা হতাশ। তার ভাষায়, রাজনৈতিক জটিলতায় যখন যোগ্যতা আটকে যায়, তখন শুধু একজন ব্যক্তি নন, পুরো জনপদই তাদের স্বপ্নের নেতৃত্ব হারায়। নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াকে তিনি মেধার অবমূল্যায়ন ও জনআস্থার ক্ষয় হিসেবে দেখেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল ড. রেজা কিবরিয়া এমপি হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন।

সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অলিউর রহমান বলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া একজন আন্তর্জাতিক মানের অর্থনীতিবিদ।

নবীগঞ্জ-বাহুবলবাসীর আশা ছিল- তিনি এমপি হলে সরকার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তাকে স্থান দিবেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী সুবিবেচনা করবেন বলে আশা করছি। হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ একজন ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত নেতা হিসেবে সবাই জানে। তিনিও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন। জেলার চারটি আসনেই বিএনপির জয় হওয়ায় অন্তত একজন মন্ত্রী পাবেন এমন আশা করেছিলেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তবে চূড়ান্ত ঘোষণায় কেউই স্থান না পাওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, নির্বাচনের আগে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ায় এখন উন্নয়ন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ড. রেজা কিবরিয়াকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার জন্য নবীগঞ্জ-বাহুবলবাসী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন