নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত একক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানের সফল সমাপ্তি হয়েছে। এই উপলক্ষে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।
নগরিক সংগঠন ধরার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি কুড়িগ্রামের রৌমারির ইটালুকান্দার ডিগ্রির চর থেকে ভোলার চর কুকরি-মুকরি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, নদীর এই পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাস্তা খুঁজে বের করা। নদীর পাড় ধরে হাঁটতে গিয়ে নদীর পাড়ের মানুষের যেমন বৈচিত্রতা দেখেছি তেমন নদী ভাঙন, দূষণ ও চরের ভয়াবহতা দেখে আতকে উঠেছি।
ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, এবার রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি নদী-খাল পুনরুদ্ধার বা পুনঃখননের আগে চলমান দখল ও দূষণ বন্ধ করা জরুরি। গাছ লাগানোর গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু তার আগে গাছ কাটা ও বনাঞ্চল ধ্বংস বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, নদীর উপর মানুষের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা ভীষণভাবে নির্ভর করে, নদী ধ্বংস হলে বিপর্যস্ত হয় সংশ্লিষ্ট জনপদ। তাই আমরা চাই সরকার নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ করুক, জীবাশ্ম জ্বালানির বিস্তার বন্ধ করুক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত অভিযাত্রী ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, এভারেস্টজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল, পিক৬৯-এর স্বত্বাধিকারী হানিয়াম মারিয়া রাকা ও চুনতি রক্ষায় আমরা এর সমন্বয়ক সানজিদা রহমান প্রমুখ।
