ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ওষুধ সংকট নিরসনে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার ওষুধসামগ্রী সরবরাহ করেছেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এমন কাজে প্রশংসায় ভাসছেন নবনির্বাচিত এমপি।
জানা গেছে, নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের সংকট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকা, সরকারের সরবরাহকৃত ওষুধের অপ্রতুলতা, বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যা এবং দালালদের দৌরাত্ম্যসহ নানা সমস্যা তার নজরে আসে। এসব কারণে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন নতুন চিকিৎসকের পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি সরকারিভাবে জনবল না পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিজস্ব অর্থায়নে ৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেন এবং হাসপাতাল এলাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে ৪ জন আনসারেরও ব্যবস্থা করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের ওষুধ হাসপাতালটিতে সরবরাহ করা হয়। সাংসদের পক্ষে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ এসব ওষুধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অ্যাপোলো ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কম্পিউটার কলেজের অধ্যক্ষ এ আর এম শামছুর রহমান লিটন বলেন, “জনকল্যাণে এমপি মহোদয়ের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। মানবিক এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এটি যেন কেবল সাময়িক উদ্যোগ না হয়ে একটি টেকসই ব্যবস্থায় রূপ নেয় এবং সাধারণ রোগীরা যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে এর সুফল পান, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু হাসপাতালের ওষুধ সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে নিজস্ব অর্থায়নে ওষুধ সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা তৈরি করে তাকে জানানো হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী গত সোমবার থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সরবরাহ শুরু করেন। তিনি আরও জানান, এর আগে এমপি জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের জন্য ৭ জন চিকিৎসকের পোস্টিং নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতালের জন্য ৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৪ জন আনসারের ব্যবস্থাও করেছেন।
এ বিষয়ে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, “ডাক্তার সংকটের কারণে অনেক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসাসেবা পায় না। কেউ কেউ চিকিৎসা পেলেও হাসপাতালে ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারেন না। তাই তাদের কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
