দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার) গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে গঠিত এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনসেবা প্রসারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নবগঠিত এই কমিটি মূলত রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর বিন্যাস ও সংস্কার নিয়ে কাজ করবে। নিকারের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর স্থাপন এবং প্রয়োজনে সেগুলোর পুনর্গঠন বা নাম পরিবর্তন করা। সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে কোনো নতুন দপ্তর খোলার প্রস্তাব এখন থেকে এই কমিটির মাধ্যমেই অনুমোদিত হবে।

প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রসারেও নিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা গঠন বা স্থাপনের প্রস্তাবগুলো এই কমিটিতেই বিবেচনা করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি এই কমিটির এখতিয়ারভুক্ত থাকবে, যা স্থানীয় উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কমিটির সদস্য কাঠামোতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদের রাখা হয়েছে। নিকারের সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প এবং আইনমন্ত্রী। এছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রশাসনিক যে কোনো জটিলতা নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।
সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে জনপ্রশাসন, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবগণ এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়াও সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবদের এই কমিটির কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
