মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি আরও বলেছেন, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ কমিশনের কার্যালয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে মতবিনিয়ম করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
এ সময় মইনুল ইসলাম চৌধুরী আশা প্রকাশ করে বলেন, ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো অক্ষুণ্ণ রেখে তা দ্রুত আইনে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, এটি হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পূর্বের মতো দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
কমিশনের কমিশনার মো. নূর খান বলেন, একজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কমিশন ভুক্তভোগীদের পাশে থাকবে এবং কোনও চাপের কাছে মাথানত করবে না।
কমিশনার অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হবে না এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজ করবে।
কমিশনার ইলিরা দেওয়ান বলেন, বর্তমান অধ্যাদেশের আলোকে কমিশন তার আইনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো কিভাবে আইনে পরিণত হবে, অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকবে কি না এ বিষয়ে তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
সভায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট’র (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর শিকার জনির ভাই রকি, জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে মাথায় গুলিবিদ্ধ কাজল মিয়া, গণপিটুনিতে হত্যার শিকার দিপু দাসের পরিবার এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
