ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের ভাতা নির্ধারণ, উদ্বোধন ১৪ মার্চ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

আজ রবিবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর অফিস কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আপনারা অবগত আছেন বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতির কথা বলা ছিল একে একে সে সমস্ত প্রতিশ্রুতির ফ্ল্যাগশিপ যেসব প্রতিশ্রুতিগুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, আপনারা সেটা দেখেছেন- আমাদের ফ্যামিলি কাডর্, আমাদের কৃষক কার্ড  নিয়ে অলরেডি আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়ে সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রথম পর্যায়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা চালু করার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪৯০৮টি মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির। সারা দেশে ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮টি উপজেলায় গির্জা অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেব পাবেন ৫০০০ টাকা করে সম্মানী। মুয়াজ্জিন সাহেব পাবেন ৩০০০ টাকা করে সম্মানী। খাদেম সাহেব পাবেন ২০০০ টাকা করে সম্মানী। তার মানে প্রতিটি মসজিদে মাসিক ১০০০০ টাকা করে দেয়া হবে।

পুরোহিত মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫০০০ টাকা। সেবা সায়েদ পাবেন ৩০০০ টাকা। বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫০০০ এবং বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩০০০। গির্জার যাজক পাবেন ৫০০০ এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩০০০ টাকা। মানে প্রতিটি গির্জা, মন্দির এবং বুদ্ধ মন্দিরে দেওয়া হচ্ছে ৮০০০ টাকা করে এবং প্রতি মসজিদে দেওয়া হচ্ছে ১০০০০ টাকা করে।

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসবে মসজিদে কর্মরতদের ঈদুল ফিতর ও আযহার ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা করে বছরে দুইবার এবং দুর্গা পুজা/বৌদ্ধ পূর্ণিমা/বড় দিন এর ক্ষেত্রে ২০০০ টাকা করে বোনাস প্রদান করতে হবে। তবে যে সকল মসজিদ সরকারি ও দেশি-বিদেশি সংস্থা কর্তৃক অনুদান প্রাপ্ত, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুবিধার বাইরে থাকবে। একইসঙ্গে এই সম্মানি প্রদানের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মার্চ-জুনে ২৪ কোটি ৫৭ সাতান্ন লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চ তারিখের মধ্যে নির্বাচিত সকল উপকার ভোগীর নিকট সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই সম্মানী প্রেরণ করা হবে।

তিনি বলেন, সম্মানী হাতে হাতে দেওয়া হবে না। তাদের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে এই টাকা তাদের একাউন্টে পৌঁছে যাবে। অতএব কোনও ধরনের দুর্নীতির মত সুযোগ আমরা এই সিস্টেমের মধ্যে রাখিনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন