তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্যকে পাশ কাটিয়ে কোনো দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করা জরুরি।

রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, বিশ্বস্বাস্থ্য অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী।

সভায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘টোব্যাকো এটলাস ২০২৫’ অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতিবছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন। তামাকের কারণে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞার আওতায় নিকোটিন পাউচসহ সরকার ঘোষিত অন্যান্য নিকোটিনজাত দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টসের উৎপাদন, ব্যবহার ও বিপণনও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে এবং ‘পাবলিক প্লেস’ ও ‘পাবলিক পরিবহণ’-এর সংজ্ঞা ও পরিধি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন, ইন্টারনেট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বিদ্যমান ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

ড. এম এ মুহিত বলেন, অনুমোদিত এই অধ্যাদেশ তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটি আইনে পরিণত না হলে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত এটি আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন।

তাহসিনা রুশদীর বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং অকাল মৃত্যুর কারণে এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন নবনির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব এটি আইনে রূপান্তর করা।

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনটির সভাপতি মাসুমা আলমসহ তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম, ইয়ুথ ফোরাম এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি জানান।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন