তেল না পেয়ে সরাসরি কৃষিমন্ত্রীকে কৃষকের ফোন

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেল নিয়ে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। চলমান এ পরিস্থিতির মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষিযন্ত্র চালানোর জন্য ডিজেল সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ক্যানে (ঢোপ) তেল দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার শত শত কৃষক।

জানা গেছে, জ্বালানি তেল সমস্যার সমাধান চেয়ে গত রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে প্রায় ৪০ জন কৃষক ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে কোনো কার্যকর সমাধান না পেয়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিন কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিকে ফোন করেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কয়েক দিন ধরে কৃষকদের জন্য স্লিপ (চিরকুট) দিচ্ছেন, কিন্তু সেই স্লিপ দেখিয়েও ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। 

ফলে অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। পুরো দেশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু কৃষকদের কোনো তালিকা বা পরিচয়পত্র নেই। এ কারণে আমরা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছি। এখন তেলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মমিন জানান, কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানোর পর সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পাম্পে তেল সরবরাহের জন্য নতুন প্যাড ছাপানোর কাজ দেওয়া হয়েছে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষকদের অভিযোগ, তবে মন্ত্রীর নির্দেশনার পরও পরের দিন সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।

আধুনিক কৃষিতে এখন ব্যাপকভাবে যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। সেচ, জমি চাষ, ফসল মাড়াই এবং কীটনাশক ছিটানোর মতো কাজেও ডিজেলচালিত যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এসব যন্ত্র পাম্পে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ক্যানে তেল নেওয়াই ছিল প্রধান ভরসা। নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মূলত ক্যানে তেল নিতে গেলে মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘এ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে এবং পাম্প মালিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করা হয়েছে। শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর