বড় বড় সিলভারের প্লেটে সাজানো রান্না করা রুই, কাতল, পাঙ্গাশ, চিংড়ি, গরু ও মুরগিরমাংস এবং টাটকা সবজি। সবই ক্রেতাদের সামনে সাজানো হয়েছে মাটিতে পাটি বিছিয়ে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বরিশালের চরমোনাইয়ের তিনদিনব্যাপী মাহফিলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী খাবার দোকানেই মিলবে দৃশ্য।
দোকানগুলোর এই ভোজনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব এর আয়োজনে। নেই কোনো টেবিল-চেয়ারের জৌলুস। বরং বিনয় আর সুন্নতের মিশেলে পাটির ওপর দস্তরখান বিছিয়েই তৃপ্তি খুঁজছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
আধুনিক ডাইনিং টেবিলের যুগে চরমোনাই মাহফিলের এই দৃশ্য যেন এক টুকরো হারানো ঐতিহ্য। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে আসা এই মানুষগুলো বলছেন, প্রতিটি কাজেই সুন্নতের অনুসরণই এনে দিতে পারে প্রকৃত শান্তি। আর সেই দর্শনেই মাটির কাছাকাছি বসে খাবারের এই তৃপ্তি যেন মাহফিলের আধ্যাত্মিকতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরও কয়েকগুণ বেশি।
মাহফিলে পাবনা থেকে আসা আক্কাস মীর বলেন, ‘চরমোনাইয়ের মাহফিলেই প্রতিটা কাজে সুন্নতের তরিকা মেনে চলা হয়। এমনকি খাবারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দস্তরখান বিছিয়ে খাওয়ায় যেমনি নবী (সা.) সুন্নত মানা হয়, তেমনি হোটেলগুলোর খাবার বাড়ির স্বাদকে মনে করিয়ে দেয়।’
সাজিদ হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘আত্মশুদ্ধির মধ্যে সবচে বড় বিষয় নবীর সুন্নত মেনে চলা। মাহফিলের এই সময়টায় অধিকাংশ খাবারের হোটেলে এই সুন্নত মানা হয়। এছাড়া এখানে দামও যেমন সস্তা তেমনি তেল মশলা কম দিয়ে খাবার তৈরি হয়।’
এদিকে ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে অস্থায়ী এই দোকানিরাও নিজেদের আন্তরিকতা বজায় রেখে চলেন। তিনদিনের মাহফিলে প্রতিদিন কয়েক হাজারের বেশি মানুষের খাবার তৈরি হয় পরিচ্ছন্নতা মেনেই। নির্দিষ্ট কোনো মেন্যু নয়, বরং নিজের পছন্দমতো মাছ বা মাংস বেছে নেয়ার সুযোগ থাকছে এখানে।
আল্লাহর দান হোটেল মালিক রাব্বি ফকির বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা মেনেই খাবার তৈরি করা হয়। আর ক্রেতাদের সামনেই প্লেটগুলোতে নানা পদের খাবার সাজানো থাকে তারা নিজেদের পছন্দমতোই খাবার নিতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ দুইশ টাকার মধ্যে একজন মানুষ গরুর মাংস দিয়ে পেটভরে খাবার খেতে পারেন।’
প্রসঙ্গত, চরমোনাইয়ের তিনদিনব্যাপী মাহফিলে দস্তর বিছানো খাবারের দোকানের সংখ্যা ২০টির অধিক।
