নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মিতু খানম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে ব্লেড দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী নুরে আলম মল্লিকের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নড়াগাতী থানার মাউলী ইউনিয়নের তেলিডাংগা গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাতে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস বার্তা বাজারকে ভুক্তভোগী মিতুর আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহত মিতু খানম কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের তেলিডাঙ্গা গ্রামের মৃত, ওবায়দুল শেখের মেয়ে। মিতুর সাবেক স্বামী নুরে আলম মল্লিক একই উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের মৃত, টুকু মল্লিকের ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে মিতু ও নুরে আলমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। নুরে আলম জীবিকা নির্বাহের জন্য কোন কাজ কাম করতেন না। তাদের সংসারে বিভিন্ন সময় বিরোধ চলে আসছিলো। ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে মিতু তার স্বামী নুরে আলমকে ডিভোর্স দেয়। তাদের ৮ বছরের ছেলেকে নুরে আলমের পরিবারের কাছে রেখে দেন। এবং ৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে খুলনায় তার বোনের বাসায় চলে যান মিতু।
শনিবার (৪মার্চ) দুপুরের দিকে মিতু খুলনা থেকে কালিয়ায় তেলিডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়িতে যায় মিতু। আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয় মিতু। এসময় তার ওপর হামলা করে তার সাবেক স্বামী নুরে আলম। ব্লেড দিয়ে এলোপাতাড়ি বিভিন্ন স্থানে টেনে জখম করে। মিতু ডাক ও চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে আসলে পালিয়ে যায় নুরে আলম। পরে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে মিতুকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত নুরে আলমের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস বার্তা বাজারকে বলেন, রাত ২ টার দিকে মিতু খানম নামে এক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে মুখে নাকে হাতে প্রায় অর্ধশত সেলাইয়ের মধ্যেমে ক্ষতচিহ্ন গুলো রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুর রহিম বার্তা বাজারকে বলেন, এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে ঘটনা জানার পর আমরা থানা থেকে পুলিশ পাঠাই। এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
