শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

বর্তমান ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (দুবাই) মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং নতুন নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সফিকুর রহমানের (কিরন) লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে জনশক্তি রপ্তানি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে সরকার বসে নেই। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের কল্যাণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ১৮০ দিনের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮টি দেশের সাথে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হয়েছে।

জাপানের শ্রমবাজারে বড় সুযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে জাপান ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং জাপানি ভাষায় দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আইএম জাপান-এর মাধ্যমে কোনও প্রকার অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ জাপানে ‘স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার’ পাঠানোর ক্ষেত্রে ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বিদেশে দক্ষ চালকের চাহিদা মেটাতে সরকার ১ লাখ ড্রাইভার তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি)-তে ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণের (RPL) মাধ্যমে তাদের কাজের স্বীকৃতি ও সনদ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বিদেশের মাটিতে ভাষাগত সমস্যা দূর করতে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, চাইনিজ, আরবি, ইতালিয়ান ও জার্মান ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে নেটিভ স্পিকার (বিদেশি প্রশিক্ষক) নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে গমনেচ্ছুদের জন্য ‘তাকামল’ (TAKAMOL) এর মাধ্যমে ৭৯টি পেশায় স্কিল ভেরিফিকেশন টেস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংসদে মন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৬২ হাজার ৩৫২ জন। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতে নামমাত্র খরচে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে পারে, সেজন্য বিএমইটি থেকে লাইসেন্স প্রদান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে প্রবাসীদের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন