বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আনতে রাজধানীর সচিবালয়ে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এবারের সভায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৭৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৭০৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণ থেকে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পগুলোর ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সভায় ৯টি একদম নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। বাকিগুলোর মধ্যে ৩টি সংশোধিত এবং ৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্প সরাসরি সভায় আলোচনার জন্য উত্থাপন করার কথা রয়েছে।
পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, এটি চলতি অর্থবছরের নবম একনেক সভা। জ্বালানি সাশ্রয় নীতি অনুসরণের কারণে এবার ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভা হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এটি সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে ১৮টি উন্নয়ন প্রস্তাবনার ওপর আলোচনা হবে।
উত্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পানিসম্পদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বেশকিছু বড় কাজ রয়েছে। এর মধ্যে করতোয়া নদীর উন্নয়ন প্রকল্প এবং চর ও পল্লী অঞ্চলের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে ডায়াগনস্টিক ইমেজিং সিস্টেম এবং শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের প্রকল্পগুলোও সভায় প্রাধান্য পাবে।
যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। মহাসড়ক সম্প্রসারণসহ রাঙামাটি ও ময়মনসিংহে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের সংশোধিত প্রকল্পটিও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রতিরক্ষা ও আবাসন খাতের উন্নয়নেও সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সরকারের এই প্রথম বৈঠকটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। বৃহৎ এই ১৭টি প্রকল্পের পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ৩৩টি ছোট প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও কমিটিকে অবহিত করা হবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
