১১৯ বছরের পুরোনো কুয়ালালামপুর জেনারেল পোস্ট অফিস নতুন রূপে উন্মুক্ত

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১১:০৬ এএম

malaysia news Inbox ahmadul kobir
২৩ মে ২০২৬, কুয়ালালামপুরের জালান রাজার নবসংস্কার করা পুরোনো জেনারেল পোস্ট অফিস উদ্বোধনের সময় পুরোনো ডাকবাক্সে পোস্টকার্ড ফেলছেন ফেডারেল টেরিটোরিজ মন্ত্রী হান্নাহ ইয়োহ ও অন্যান্য অতিথিরা।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ১১৯ বছর পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) ভবন সংস্কার শেষে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে আবারও জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নতুনভাবে সাজানো এই ভবনে এখন থাকছে খাবার, কেনাকাটা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের নানা আয়োজন। জালান হিসামুদ্দিন ও জালান রাজার সংযোগস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই ভবনটি বিখ্যাত সুলতান আব্দুল সামাদ বিল্ডিং-এর পাশেই অবস্থিত। খাজানাহ ন্যাশনালের ‘ওয়ারিসান কেএল’ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ভবনটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

১৯০৭ সালে চালু হওয়া পুরোনো জেনারেল পোস্ট অফিসটি দীর্ঘদিন কুয়ালালামপুরের ডাকঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৮৪ সালে দায়াবুমি কমপ্লেক্সে নতুন ডাকঘর স্থাপনের পর ভবনটির কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার ভবনটির পুনরায় উদ্বোধন করেন ফেডারেল টেরিটোরিজ মন্ত্রী হান্নাহ ইয়োহ এবং কুয়ালালামপুরের মেয়র দাতুক সেরি ফাদলুন মাক উজুদ।

অনুষ্ঠানে খাজানাহ ন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাতুক আমিরুল ফয়সাল ওয়ান জাহির, রিয়েল অ্যাসেটস প্রধান সেলভেন্দ্রান কাথিরায়াসন এবং পেঙ্গুরুসান অ্যাসেট ওয়ারিসানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিলমে হাসানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। খাজানাহ ন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল ফয়সাল জানান, দাতারান মেরদেকা এলাকায় অবস্থিত আটটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী ভবন সংরক্ষণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে জিপিওর সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রথম ধাপে সুলতান আব্দুল সামাদ বিল্ডিং এবং জিপিও ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ওল্ড হাই কোর্ট, ডিবিকেএল সিটি থিয়েটার এবং ওল্ড সার্ভে অফিস ভবনের সংস্কার করা হবে। শেষ ধাপে থাকবে ন্যাশনাল টেক্সটাইল মিউজিয়াম।” হিলমে হাসান জানান, ভবনটি গ্রহণের সময় এর অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। ঐতিহ্যবাহী ভবন পুনরুদ্ধার করতে ব্যাপক গবেষণা ও সতর্ক পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৬০-এর দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ভবনটিতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার করা হয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকে আদালত হিসেবে ব্যবহারের সময় ভবনের মূল নকশা ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের অনেক পরিবর্তন ঘটে। ১৫ মাসব্যাপী এই সংস্কার কাজ ছিল আটটি ঐতিহ্যবাহী ভবনের জন্য ৬০ কোটি রিঙ্গিত ব্যয়ের বৃহৎ সংরক্ষণ প্রকল্পের অংশ।

প্রায় ৪৯ হাজার ৮৮৮ বর্গফুট আয়তনের নবায়ন করা ভবনটিতে এখন স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে বিভিন্ন রিটেইল ও খাদ্য আউটলেট চালু করা হয়েছে। এখানে দর্শনার্থীরা ‘এ পিস অব মালয়েশিয়া’ স্টোরে সৃজনশীল স্মারক, পোস্টকার্ড ও স্থানীয় খাবার কিনতে পারবেন। এছাড়া তরুণদের জন্য জনপ্রিয় ক্যাফে ‘নিকো নেকো ম্যাচা’ এবং স্থানীয় স্বাদের ‘ওরিয়েন্টাল কোপি’ও চালু হয়েছে।

প্রথম তলায় রয়েছে রুয়াই, সৌদাগার, বাংলো ২৮৯ ও ট্যানিন হিলের মতো রেস্টুরেন্ট, যেখানে বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় তলায় ‘কোংসি ক্রিয়েটিফ’ নামে একটি প্রদর্শনী ও ইভেন্ট স্পেস তৈরি করা হয়েছে।

বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনের প্রথম দিনেই পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ভবনটি পরিদর্শন করেন। ২৫ বছর বয়সী দর্শনার্থী নিওহ ওয়েই শেন বলেন, আমি আগে দাতারান মেরদেকায় ঘুরতে আসতাম। এখন এখানে বসে আড্ডা দেওয়া ও খাবার খাওয়ার সুন্দর জায়গা হয়েছে। আরেক দর্শনার্থী জেসি গোহ বলেন, আমি আগে জানতাম না এটি ডাকঘর ছিল। এখন সংস্কারের পর ভবনটি আরও সুন্দর দেখাচ্ছে।

এদিকে ৭৯ বছর বয়সী ডাকটিকিট সংগ্রাহক গ্যারি ওয়ান নিয়িন কিয়াত ভবনটিতে নিজের স্টল নিয়ে অংশ নেন। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “এই ভবনটি আমার কাছে অনেক নস্টালজিক।” ছয় বছর বয়স থেকে ডাকটিকিট সংগ্রহ শুরু করা গ্যারির সংগ্রহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ-এর প্রতিকৃতি ও বিভিন্ন স্থাপনার ডাকটিকিটভিত্তিক কোলাজও রয়েছে।



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর