ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি শিল্পকারখানার ঝুট (বর্জ্য) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার দিনভর চলা এ উত্তেজনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া এলাকায় এসকিউ গ্রুপের কালার মাস্টার কারখানার ঝুট ব্যবসা ঘিরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, ৪ জুলাই (শনিবার) সকালে বহিষ্কৃত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোর্শেদ আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইচআরকেএম এন্টারপ্রাইজ কারখানা থেকে ঝুটের মালামাল বের করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিন্তু কালার মাস্টার কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধ প্রায়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মোর্শেদ আলম দাবি করেন, তাঁর উদ্যোগে এবং তাঁদের অধিকাংশ জমির ওপর এসকিউ গ্রুপের কালার মাস্টার কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইচআরকেএম এন্টারপ্রাইজ ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে প্রায় ২২ বছর ধরে কারখানাটির ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য-সমর্থিত একটি পক্ষ, উপজেলার বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য খোকা মিয়ার নেতৃত্বে, আওয়ামী লীগের দোসর ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত তোফাজ্জল হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর ব্যবসা দখলের চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারও তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি কারখানা থেকে ঝুটের মালামাল বের করতে পারেননি। এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খোকা মিয়া বলেন, আগে মোর্শেদ আলমের নামে ওয়ার্ক অর্ডার ছিল। বর্তমানে তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেএএসআর এন্টারপ্রাইজের নামে কারখানাটির ঝুট ব্যবসার ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। বৈধ গেটপাসের মাধ্যমেই তাঁরা মালামাল বের করছেন।
শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আনসার উদ্দিন বলেন, সকালে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও এসকিউ গ্রুপের কালার মাস্টার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
