কক্সবাজারে প্যারাবন উজাড় করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এক্সক্যাভেটর দিয়ে উপকূলের মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকাশ্যে প্যারাবন নিধন ও মাটি কাটার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিমদাদ মিয়া ঘাট সংলগ্ন উজানটিয়া চ্যানেল এলাকায় স্থানীয় শফি কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় মাছের ঘের সম্প্রসারণের কাজ করছেন। তিনি ওই এলাকায় মৃত করম আলীর ছেলে। মাছের ঘের নির্মাণে কাটা পড়েছে প্যারাবনের গাছ। এ ছাড়া উপকূলের মাটি কেটে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁধ।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় প্রায় ৩ একর প্যারাবন অসংখ্য গাছ কাটা হয়েছে। পাশাপাশি এক্সক্যাভেটর দিয়ে প্রায় ৫ একর উপকূলীয় জায়গার মাটি কাটা হয়েছে। 

‎স্থানীয়দের দাবি, প্যারাবন উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় ঢেউয়ের শক্তি কমানো, উপকূলীয় ভূমি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রজননক্ষেত্র তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে নির্বিচারে প্যারাবন কেটে মাছের ঘের সম্প্রসারণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও উপকূলীয় জনপদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

তারা জানান, প্রকাশ্যে প্যারাবন ও মাটি কাটার কাজ চললেও শুরুতে বন বিভাগের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে মগনামা বিট কর্মকর্তা হোসেন তওফিক বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই বিট কার্যালয় থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। মাটি কাটা বন্ধ এবং এক্সক্যাভেটর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎‎তবে প্যারাবন কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শফি বলেন, প্যারাবন আগে থেকেই কাটা ছিল। সেখানে আগে থেকেই একটি মাছের ঘের ছিল। ঘেরের বাঁধে পানি ঢুকে যাওয়ায় এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, শফি একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন মৎস্যঘের ইজারা নিয়েছেন। ইজারা নেওয়ার পর বাঁধে ছিদ্র হয়ে পানি বের হয়ে যাওয়ার অজুহাতে তোলেন। পরে পাশের আরও কিছু জায়গা দখলে নিয়ে নতুন বাঁধ নির্মাণের করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের নির্দেশে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্কেভেটর জিম্মায় রাখার পাশাপাশি বাঁধটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর জায়গা দখল ও প্যারাবন কেটে মাছের ঘের নির্মাণ কোনোভাবেই করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী দেলওয়ার হোসাইন বলেন, উপকূলীয় প্যারাবন শুধু গাছপালার সমষ্টি নয়, এটি উপকূলের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের অভিঘাত কমানো, উপকূলীয় ভূমিক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্যারাবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নির্বিচারে প্যারাবন ধ্বংস করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উপকূলীয় জনপদে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই প্যারাবন নিধন বন্ধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় প্যারাবন সৃষ্টি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন