সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে অর্থমন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ এএম

দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো ধরনের সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরও অর্থমন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’ ব্যবহার করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এতে সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে দাপ্তরিক নথিতে এসব সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরিপত্রে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্যকোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়, সিদ্ধান্তটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে। অর্থাৎ সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক চিঠিপত্র, নথি ও সারসংক্ষেপে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদবির আগে কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের সুযোগ নেই।

কিন্তু সরকারের এমন স্পষ্ট নির্দেশনার পরও আইডিআরএর একটি দাপ্তরিক নথিতে অর্থমন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের পরিপত্র জারির পরও কেন রাষ্ট্রীয় একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিতে নিষিদ্ধ ওই সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা হলো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের নির্দেশনা শুধু মন্ত্রণালয় বা সরাসরি সরকারি দপ্তরের জন্য নয়; সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে কীভাবে পদবি উল্লেখ করা হবে, সে বিষয়ে এটি একটি সাধারণ নির্দেশনা। তাই আইডিআরএর মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা অনুসরণ করার কথা।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, আইডিআরএর ওই নথিতে ‘মাননীয়’ শব্দটি কীভাবে ব্যবহৃত হলো এবং নির্দেশনা জারির পরও এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের কোনো জবাবদিহি করা হবে কি না।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন