রামপালে জরাজীর্ণ দুই কাঠের পুল, টেকসই সেতুর দাবি স্থানীয়দের

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

বাগেরহাটের রামপালে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাঠের পুল দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। অব্যবস্থাপনা আর দেখভালের অভাবে দিন দিন কাঠের পুল দুটি একেবারেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কার নয় বরং প্রয়োজন স্থায়ী টেকসই সেতু নির্মাণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের দাউনখালি শাখা নদীর উপর নির্মিত একটি ও সকুরহাট এলাকায় আরেকটি কাঠের পুল জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুলের অধিকাংশ কাঠের তক্তা পুরোনো হওয়ায় কয়েক জায়গায় ভেঙে গেছে। নিচের খুঁটিও হয়ে গেছে নড়বড়ে। হালকা যানবাহন ও একাধিক মানুষ একসঙ্গে পারাপার হতে পড়তে হয় চরম বিড়ম্বনায়। হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা কাঠের পুল দুটি পারাপারে মাঝেমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনাও।

পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল, নজু শেখ, ধ্রুব পাল, আব্দুর কাদের, জিন্নাত খান, শেখ এনামুল কবির বলেন, প্রায় ৭/৮ বছর ধরে আমাদের সগুনা ও সকুরহাট কাঠের পুল দুটি নষ্ট হয়ে আছে। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। বাগেরহাটের রামপাল, চিতলমারী, বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, শরণখোলাসহ ৮/৯টি উপজেলার মানুষের দৈনিক যাতায়াত এ দুটি কাঠের পুল দিয়ে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ পুল মাঝেমধ্যে ভেঙে গেলে কয়েকবার গ্রামবাসী মিলে টাকা তুলে মেরামত করেছি। 

তারা আরও বলেন, মূলত নদী খননের সময় কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় আর নির্মাণ হয়নি। এরপর যাতায়াতের জন্য কাঠের পুল নির্মাণ করা হয়। এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন বা সরকারের কোনো নজর পড়েনি আমাদের ভোগান্তি। ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের দৈনিক পারাপার হওয়া কাঠের পুল দুটির জায়গায় জরুরিভাবে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।

হাওলাদার শহিদুল ও উকিল উদ্দিন শেখ নামের দুজন বলেন, সকুরহাট কাঠের পুল কিছুদিন আগে সংস্কার করা হয়। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আবার খুঁটি ও তক্তা ভেঙে গেছে। এরপর আবার সংস্কার করা হয়েছে। কিছু উন্নতি হয়েছে কিন্তু কয়দিন টিকবে এটা বলা কঠিন। যে টাকা বরাদ্দ ছিল সেটা দিয়ে নতুন একটি কাঠের পুল নির্মাণ করা যায়। সংস্কারেও আসেনি কোনো সুফল। আমরা বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর জোরালো দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাদ্দাম হোসাইন কালবেলাকে বলেন, কাঠের পুল দুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পারাপারে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সরেজমিনে গিয়ে মেজারমেন্ট করে নতুন প্রকল্পের (ডিপিপি) জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন