শুধু আইফোনের জন্যই অপ্রতিম হত্যা নাকি তার মায়ের ওপর প্রতিশোধ?

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে ২০২৫ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোরকে মাদকসেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সেই ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার (শীলা) এমন তদন্তের দাবি জানান।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী অভিযানে তৎকালীন প্রক্টরিয়াল বডি সাতজন কিশোরকে আটক করে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ড. নাহিদা বেগম।

ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী তৎপরতা প্রতিরোধেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আড্ডা ও মাদকসেবনের তৎপরতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত তৎপরতা নিয়ন্ত্রণেও ড. নাহিদা বেগম সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক কিশোরদের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত তারা পাননি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্ত অব্যাহত আছে। কাউকে নতুন করে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তিনি জানান, আইফোন ছিনিয়ে নিতে গিয়েই ঘটনা হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়ায়। 

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার নুরে আলম ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। সে ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়।

অপর গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহাদ।

তৃতীয় গ্রেপ্তার মো. কামরুল হাসান (১৬) তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া কালিবাজার এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ও কুলসুম আক্তারের ছেলে। আর তুহিনের বন্ধু গ্রেপ্তার সিয়াম (১৯) সদর দক্ষিণ উপজেলার এলাহীপুর এলাকার সেলিম মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন