উচ্চ আদালতের জামিন পাওয়ার পরও হাজতি ইলিয়াস হোসেনকে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন।
আদালতে দেওয়া লিখিত জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শো-অ্যারেস্ট) কাগজপত্র থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ ঘটনায় জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশে দুই দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে জবাব দেন কারা কর্মকর্তা। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো তাতে বিচারকের স্বাক্ষর হয়নি বলে জানা গেছে।
জেল সুপারের দাখিল করা জবাব অনুযায়ী, ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানার তিনটি, পাঁচলাইশ থানার একটি ও খুলশী থানার একটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটিতে তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
জবাবে বলা হয়, ইলিয়াসের সর্বশেষ মামলার জামিন আদেশ গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে কারাগারে পৌঁছায়। ওই দিন মোট ৯৮ জন বন্দির জামিন আদেশ যাচাই-বাছাই করে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। তবে ইলিয়াসকে মুক্তি দেওয়ার আগে পুলিশ প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শো-অ্যারেস্ট) কাগজপত্রও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
জেল সুপারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এ কারণে ইলিয়াসের জামিন কার্যকর করা স্থগিত রাখা হয়। পরে আদালতের দাপ্তরিক সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে তার বিরুদ্ধে অন্য মামলায় হাজিরা-পরোয়ানা কারাগারে পাওয়া যায় বলেও জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
জবাবে আরও বলা হয়, বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তী জামিন পান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ওমর গণি এমইএস কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন। পরে জামিননামা নিম্ন আদালতে দাখিল করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পরও তাকে মুক্তি না দেওয়ায় আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ।
আইনজীবীর অভিযোগ ছিল, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অন্যকোনো মামলায় হাজিরা-পরোয়ানা বা কারাগারে আটক রাখার আদেশ না থাকা সত্ত্বেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় আদালত জেল সুপারের কাছে ব্যাখ্যা চান।
জানা গেছে, ইলিয়াছ হোসেন (২৫) নগরীর চকবাজার থানার ঘাসিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিসের ছেলে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা পৃথক ৩টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ৬ জুন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মাঠে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরেকটি মামলা হয়। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ২৭(৫)/২৬ ধারায় ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
