চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃত সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবাহানের ছেলে।
স্বজনরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে তিনি হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতেই ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার বাবা আব্দুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায়। এ সময় সিয়ামের নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার আগেই তার অবস্থার আরও অবনতি হলে পরে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মো. মোবারক হোসেন মামুন বলেন, সিয়ামকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায়। তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
সিয়ামের স্বজন হাবিবুর রহমান বলেন, সিয়াম তার ভাতিজা। কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকলেও বিষয়টি কাউকে জানায়নি। বাড়িতে বিছানায় ছিল এক সপ্তাহ। হাসপাতালে গিয়ে তার নিথর দেহ দেখে বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।
মতলব উত্তর স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামীম খান বলেন, সিয়াম গ্রামের একজন ভালো ফুটবলার ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকার ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিয়ামের বাবা আব্দুস সোবাহান বলেন, ‘আমার পোলাডার গত এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর। আমি ওরে কইছি ডাক্তারের কাছে যাইয়া চিকিৎসা নে। কিন্তু অয় আমার কথা হুনে নাই। আইজকা অবস্থা বেশি খারাপ হইয়া গেলে হাসপাতালে লইয়া আইছি। হাসপাতালে আওনের পর ওর নাক-মুখ দিয়া রক্ত বার হইছে। ডাক্তার চিকিৎসা করছে। পরে ঢাকা হাসপাতালে নেওনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স রেডি করছিলাম। কিন্তু যাওনের আগেই আমার পোলাডা আমাগো ছাইড়া চইলা গেছে।’
