মেঘনায় ট্রলারডুবি: তিন সন্তানের পর মিলল বাবার মরদেহ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঘটে যাওয়া ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার সদস্যের শেষ মরদেহটিও উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ৩ দিন পর হেলাল উদ্দিনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেঘনার শাখা মারিখালি নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।​ এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মেঘনা নদী থেকে হেলাল উদ্দিনের তিন সন্তান, সজিব, সামিয়া ও শিশু সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী গ্রাম থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনেরা। গরু-ছাগলসহ ট্রলারটিতে মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রলারটি বৈদ্যারবাজার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত এবং রাশিদা নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে হেলাল উদ্দিন ও তার তিন সন্তান নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে।

শনিবার সকালে ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধারের পর সোমবার দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের হাত-কোপা ও রতনপুর এলাকার মাঝামাঝি নতুন ব্রিজের নিচে মারিখালি নদীতে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদ চৌধুরী জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে বাকি থাকা হেলাল উদ্দিনের মরদেহ সোমবার উদ্ধারের মধ্য দিয়েই ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।

একই পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের বিলাপে পুরো এলাকায় এখন নেমে এসেছে বিষাদময় পরিবেশ। বিয়ের আনন্দের মুহূর্তে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্তব্ধ পুরো এলাকাবাসী।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর