৬ থানার পরও আইনশৃঙ্খলার অবনতি কেন, প্রশ্ন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

রংপুর নগরী ও আশপাশের এলাকায় মাদক পরিস্থিতিকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরের মাসের সভায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, রংপুরের সবচেয়ে বড় সমস্যা মাদক। মাদকের কারণে অপরাধ ও নিষ্ঠুরতা বাড়ছে। নগরীর মাছুয়া পাড়ায় মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় একজন শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনা রংপুরসহ সারা দেশকে নাড়া দিয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মাদক নিয়ে রংপুরের সংসদ সদস্যরা সংসদে ৭১ বিধিতে নোটিশ দিয়ে বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়া মাদক কারবারিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে জামিনযোগ্য ধারায় নামমাত্র মামলায় আসামিদের আদালতে চালান দেওয়া হয়।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরে বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে। প্রশাসনের স্থবিরতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগের অভাবে মাঠে-ঘাটে, বাসে ও দোকানে টাকা আদায় করে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

রংপুর নগরীর আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন তো আমারও। রংপুর মহানগরীতে একটি থানার জায়গায় ছয়টি থানা হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলার অবনতি কেন?’

ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা উন্নতির জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে যাব। পরের মাসের সভায় যদি ব্যর্থ হয়, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আমি সুপারিশ পাঠাব।’

উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ৬ মাসে রংপুর জেলার সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এবং রংপুর বিভাগের জন্য ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং বিভাগের সব পৌরসভার জন্যও নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করার অঙ্গীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরু হয়ে জুনে শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা আছে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার। এ জন্য আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী,  সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফ্যান্সি, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর