তথ্য কমিশন গঠনে ব্যর্থতার বিশ্বরেকর্ডের দিকে যাচ্ছে সরকার: ইফতেখারুজ্জামান

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ এএম

তথ্য কমিশন গঠনে সরকার ব্যর্থতার বিশ্বরেকর্ড করার দিকে ধাবিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার কনভেনশন হলে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তথ্য অধিকার ফোরাম আয়োজিত তথ্য অধিকার সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কমিশন গঠনে অত্যন্ত তৎপর হয়েও ব্যর্থতার এক অনন্য রেকর্ড গড়ার দিকে ধাবিত হয়েছে সরকার। এমন এক আইন তৈরি করে এই রেকর্ড গড়া হয়েছে, যা অন্যকোনো দেশ হয়তো কখনোই করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বিব্রতকর এবং স্পষ্টত আইনের লঙ্ঘন। সাধারণ মানুষ যখন আইন লঙ্ঘন করে, তখন তাদের বিচার হয়। কিন্তু সরকার যখন নিজেই আইন লঙ্ঘন করে, তখন তার বিচার কী হবে?’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বিচার একটাই আছে সরকারের জন্য জনগণের আস্থা। যদি সে আস্থা হারায়। সেটার প্রতিফল বিভিন্নরূপে ঘটে। ইতিহাস সবাইকে মনে করিয়ে দেয়। আর দ্বিতীয় হচ্ছে, কমিশন গঠিত হলে আমরা আশাবাদী হতে চাই যে কমিশনটি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করার মতো কমিশন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে দলীয় ক্যাডার দ্বারা পরিচালিত হয়েছে তথ্য কমিশন। আমাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবারও যদি একই অবস্থা হয় সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে চাই না।’

তথ্য কমিশনের সচিব মো. শাহ আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে কমিশন পুনর্গঠন করতে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্চ কমিটি আরও এক-দেড় মাস আগে কাজ শেষ করতে পারত। ইতোমধ্যে আমাদের সভা হয়েছে, আমরা আশাবাদী খুবই অল্প সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হবে।’

ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন ও সংশ্লিষ্ট জরিপ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাধারণ মানুষের তথ্যের আগ্রহ মূলত সুপেয় পানি, রাস্তাঘাট বা কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সেবাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অপরাধ, মানবাধিকার বা ন্যায়বিচার পাওয়ার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে তথ্যের কোনো জোরালো দাবি লক্ষ্য করা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এর মূল কারণ প্রতিকার চাইতে গিয়ে উল্টো হেনস্তা বা আইনি আক্রোশের শিকার হওয়ার তীব্র ভয়। এই ভীতি, পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং তথ্যের সহজলভ্যতা না থাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, দরিদ্র এবং বিশেষ করে নারীরা এই আইনের ব্যবহার থেকে বহু দূরে রয়েছেন।’

ফলে নাগরিক হিসেবে মাথা তুলে অধিকার প্রয়োগ করার যে মৌলিক ভিত্তি নিয়ে আইনটি হয়েছিল, বাস্তবতার অভাবে মানুষ এখনো কার্যত প্রজাসুলভ অবস্থানেই বন্দি হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ড. কে. এম. মামুন উজ্জামান, ইইউ ডেলিগেশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল, ইকনোমিক, ট্রেড, প্রেস এন্ড ইনফরমেশন সেকশন) কামিলা পার্তিকা, নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের ডিরেক্টর ড. আদি ওয়াকার ও তথ্য অধিকার জরিপ ২০২৬-এর প্রধান গবেষক ড. অনন্য রায়হান প্রমুখ।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর