নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করে আসছেন মাহাবুব আলম প্রিন্স। গত এক দশক ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মাহাবুব আলম নিজেকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পলাশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেলাধুলার আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে নিয়মিত কাজ করেন তিনি। প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন স্থানে খেলাধুলায় অংশ নিয়ে তরুণদের উৎসাহিত করেন।
গত ১০ বছরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিকেট ও ফুটবলের খেলার সামগ্রী এবং ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা উপহার দিয়েছেন বলে জানান মাহাবুব আলম। তার ভাষ্য, তরুণরা যাতে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং অপরাধ থেকে দূরে থাকে, পাশাপাশি পরিবেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা যায়—এ লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় পলাশ উপজেলায় ২০ হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন মাহাবুব আলম। ইতোমধ্যে নিজের গ্রামের বড় রাস্তার পাশে প্রায় ২ হাজার চারা রোপণ করেছেন বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে এ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এ কর্মসূচির জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকার বাজেট তৈরি করেছেন বলেও জানান মাহাবুব আলম। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
মাহাবুব আলম প্রিন্সের জন্ম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরের চলনা গ্রামে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বি.এসসি এবং মা জ্যোৎনা বেগম। চরসিন্দুরের শহীদস্মৃতি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেন তিনি।
নিজের উদ্যোগের বিষয়ে মাহাবুব আলম প্রিন্স বলেন, ‘আমার কোন উচ্চ আশা নেই। আমি জানি সব মানুষ এক রকম হয়না। দেশে পজেটিভ মানুষের চেয়ে ন্যাগেটিভের সংখ্যাই বেশি। আমি আমার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যেতে চাই। খেলাধুলার মাধ্যমে ছোটরা সৎ মেধাবী হয়ে গড়ে উঠুক, ওরা অনেক বড় হউক। ওরা একদিন নতুন নতুন সমাজ বিনির্মাণের কারিগড় হয়ে দেশ গড়ক। এটাই আমার বড় প্রাপ্তি হবে।’
বৃক্ষরোপণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর বৃক্ষ চাড়া রোপন করে যাচ্ছি এইসব চাড়া গাছও একদিন পথাচারীকে ছায়া দিবে, অপরদিকে ফল দিবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এছাড়াও বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা যখন মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তখন ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কেবল একটি প্রশংসনীয় কাজই নয়, বরং দেশ ও মানুষের কল্যাণে এক অপরিহার্য দায়িত্ব। ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’—এই স্লোগানকে ধারণ করে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক অনন্য অবদান।’’
খেলাধুলা নিয়ে তার স্লোগান, ‘খেলা-ধুলায় যুবকরা ভালো থাকুক, পলাশে যুবকদের মাঝে জ্ঞানের বারুদ হয়ে পলাশ ফুল ফুটুক এবং পলাশ উপজেলাটা ছায়াময় মায়াবী হোক।’
