ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান বলেছেন, একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ময়মনসিংহ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নগরের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা আরও কার্যকর করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘জনতার মুখোমুখি প্রশাসক’ শীর্ষক উন্মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসের কার্যক্রম, অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নাগরিকদের সামনে তুলে ধরা এবং নগরের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি শোনার উদ্দেশ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে খন্দকার আবু কায়সার নামের একজন গত ছয় মাসে প্রশাসকের সফলতা ও ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। তবে এসব ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হলেও নাগরিকদের একটি অংশের অসচেতনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। অনেকেই বহুতল ভবন থেকে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলছেন। এ কারণে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
প্রশাসক বলেন, শহরটা আমাদের সবার। নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে হলে শুধু সিটি করপোরেশন কাজ করলেই হবে না, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
নগরবাসীর মধ্যে নিজের শহরের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা আরও বাড়ানোকে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, নাগরিকরা নিজেদের শহরকে ভালোবাসলে এবং শহরের প্রতি দায়িত্বশীল হলে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ ও নাগরিক শৃঙ্খলাসহ অনেক সমস্যার সমাধান দ্রুত করা সম্ভব।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নাগরিকেরা নগরের নিরাপত্তা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, সড়ক নির্মাণ, মাদক, ছিনতাই এবং তামাকজাত পণ্যের বিক্রিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও দাবি তুলে ধরেন।
নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিয়াজুল কবীর ছিনতাই প্রতিরোধে পুরো শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বিপণিবিতান ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এনসিপি নেতা ইকরাম এলাহী খান ড্রেনের দূষিত বর্জ্য সরাসরি ব্রহ্মপুত্র নদে পড়া বন্ধে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পাটগুদাম এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস লিলি বিদ্যালয়ের আশপাশে তামাকজাত পণ্যের বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের ১০০ গজের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহা. হেলাল উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চলমান সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান। দীর্ঘদিন ধরে চলমান কাজের কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে ভোগান্তি কমে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও দাবির জবাবে প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, নগরের সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সময় নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য সচেতন নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর অভিযোগ, পরামর্শ ও প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম আরও জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘জনতার মুখোমুখি প্রশাসক’ অনুষ্ঠানে নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয় দিকগুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মসিক প্রশাসক।
