সুরমার তীরে বর্জ্য ফেললে আইনগত ব্যবস্থা: সিসিক প্রশাসক

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

সুরমা নদীর তীরে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, নদীর তীরে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক পণ্যের পরিত্যক্ত সামগ্রীসহ অপচনশীল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর কদমতলী দরিয়াশাহ মাজার সড়কের পাশে সুরমা নদীর তীর পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন,  আমরা পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য একটি গ্রিন নগরী গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে নদী, ছড়া ও ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রিন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হলে এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন নগরবাসী। তাই শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নয়, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। নদীর তীর, ছড়া বা ড্রেনে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে কেউ নদীর তীরে কিংবা ছড়া-ড্রেনে বর্জ্য ফেললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা এবং তাদের সর্বোচ্চ নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

এসময় নগরীর শাহজালাল সেতুর পাশে থাকা খালি জায়গায় একটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে ওই এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে এবং অব্যবহৃত জায়গাটি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

এদিন বিকেলে সিলেট নগরীর খাদিম নগর এলাকার চারটি ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিসিক প্রশাসক।

সেখানে তিনি বলেন, সিলেটে চলমান ব্যাপক নগর উন্নয়ন কার্যক্রমকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সরকার ও সিটি করপোরেশন নগরের আধুনিকায়নে নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এসব উন্নয়নকে টেকসই ও সার্থক করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীরও দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, সচেতন থাকি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করি, তাহলে আমাদের প্রিয় সিলেট নগরীকে আরও আধুনিক, সুন্দর ও বসবাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। নগরীর সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে এসময় ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর