মেট্রোরেলের ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ এএম

ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এর মধ্যে লাইন-১-এর চারটি এবং লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ভূগর্ভস্থ পথ

লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে।

স্টেশন তিনটি হলো- বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত স্টেশন। এ ছাড়া টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট নির্মাণ করা হবে।

এ কাজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি দরপ্রস্তাব দেয়। দুটিই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। পরে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। তবে সুপারিশকৃত দর ভ্যাট ও কর বাদে সরকারি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৩২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি।

বিদ্যুৎ ও সংকেত ব্যবস্থাতেও প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দর

লাইন-১-এর সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন করা হবে। রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ের পাশাপাশি ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং উপকেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা থাকবে।

এ কাজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রাক্-যোগ্যতা পাওয়া দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দরপ্রস্তাব দেয়। পরে ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

সিপি-১০ প্যাকেজে থাকবে সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। এতে যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক ও এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগব্যবস্থা থাকবে।

এ কাজের ব্যয় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

ডিপো ও উড়ালপথ নির্মাণেও হাজার কোটি টাকা

লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন উপকেন্দ্র ও ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ভ্যাট ও করসহ ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটারসহ মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়ালস্টেশনও হবে।

এ কাজে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

আরও তিন প্যাকেজের প্রস্তাব

লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ হবে। এর মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক শূন্য শূন্য ৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। কাজটি পেতে পারে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ।

লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণ করা হবে। মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, লাইন-১ ও লাইন-৫- দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক অনুমোদন করেছে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে প্রকল্প দুটিতে অর্থায়ন করছে।

মেট্রোরেলের লাইন-৫ রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাবে।

অন্যদিকে, মেট্রোরেলের লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুটি রুটে নির্মিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর