স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন বিসিএসের প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকা সেই প্রার্থী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ এএম

৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকা প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন শেষে পুনরায় তালিকা প্রকাশের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত মো. জসীম উদ্দীন। তিনি বলেছেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) সত্যিই গেজেটে তার নাম এলে তিনি খুশি হবেন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সিস্টেমের ওপর পুনরায় তার আস্থা ফিরবে।

এর আগে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরির পরীক্ষা বা কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেছেন, নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না। পুনরায় ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর পরই কালবেলার সঙ্গে আলাপকালে জসীম উদ্দীন বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক পরিচয় ছিল আমি স্বীকার করি। ২০২২ সালের কমিটিতে আমি ছাত্রলীগের পোস্টেড।’

তিনি বলেন, ‘একটু আগেই দেখলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, যে ৪৬ জন বাদ পড়েছে সবার ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শেষ করার পর গেজেট দেওয়া হবে আগামী সোমবার এবং রাজনৈতিক কোনো কারণে, বিশেষ করে তিনি আমার ব্যাপারটা মেনশন করেছেন—একজন আত্মাহুতি দেবেন বলেছেন।’

জসীম উদ্দীন বলেন, ‘যেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই আশ্বস্ত করেছেন, তো আমার এই মুহূর্তে কিছু বলার নাই। যদি সোমবার সত্যিই গেজেটে আমার নাম আসে অবশ্যই অনেক খুশি হবো। বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সিস্টেমের ওপর আমার পুনরায় আস্থা আসবে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে পুনরায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করব।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আমার অ্যাক্টিভ পার্টিসিপেশন (সক্রিয় অংশগ্রহণ) ছিল। এগুলোর ছবিও আছে।’

৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত এ প্রার্থী বলেন ‘আমার বৃদ্ধ-অসুস্থ বাবা-মায়ের সামনে এই মুহূর্তে দাঁড়ানোর মতো কোনো মুখ ছিল না। আমার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’

এর আগে ৪৯তম বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পেয়েও গেজেট না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জসীম উদ্দীন। ৪৯তম বিসিএসের যোগদানের দিন আগামী ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আত্মাহুতির ঘোষণা দেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া এক পোস্টে জসীম উদ্দীন লেখেন, ‘সময়টা ২০১০ সালের ডিসেম্বর, তিউনিসিয়ার যুবক মোহাম্মদ বোয়াজিজি রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নে শেষ পর্যন্ত শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহুতি দিলেন। তার জীবনের বিনিময়ে পুরো আরব বিশ্বে বেশ পরিবর্তন এসেছিল। আজ থেকে সে আমার আইডল।’

‘ঘোষণা’ শিরোনামে তিনি আরও লেখেন, ‘৪৯ তম বিসিএস-এর জয়েনিং (১২ অক্টোবর) দিন সন্ধ্যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আমিও শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহুতি দেওয়ার ঘোষণা দিলাম।’

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের বিনিময়ে হয়তো কিছুই অর্জিত হবে না কিন্তু ভেরিফিকেশান নামক হয়রানি এবং গেজেটের দাসত্ব থেকে এই জাতির মেধাবী সন্তানরা মুক্ত হোক সেই কামনা রইল।’

উল্লেখ্য, ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থাৎ সুপারিশের পরও প্রজ্ঞাপনে নেই ৫৭ প্রার্থীর নাম। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপনের প্রার্থীর সংখ্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত তথ্য হচ্ছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে দেওয়া হয়েছে ৬৬৫ জন। কারণ তিনজন তাদের সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি। কারণ আপনারা জানেন বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে এপিয়ার হওয়া যায়। চূড়ান্তভাবে সেই সনদটি প্রফেশনাল সার্টিফিকেট হলেও জমা দিতে হবে, সেটা দিতে পারেননি। আর আটজন মেডিকেল টেস্টে প্রেজেন্ট হননি। শারীরিক যোগ্যতার মেডিকেল টেস্টের যেটা বিধান আছে, ওখানে হাজিরই হননি। তাহলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫৭।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর