সম্প্রতি, ‘চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় গোলাগুলি ও উত্তেজনা’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটির সাথে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভিডিওটি রাজধানীর বাংলামোটরেরও নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ১১ জুন রাত পৌনে দশটার দিকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ময়লাপোতা মোড়ের কাছে ১৭ তলা ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। তখন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। সেই ঘটনার ভিডিও এটি।
বিস্তারিত
অনুসন্ধান করতে গিয়ে Mainul Ahsan Rifaz নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১১ জুন প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে। মাইনুল এহসান রিফাজের পোস্টে বলা হয়েছে, ভিডিওটি খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার।উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ১২ জুন প্রথম প্রহরে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১১ জুন রাত পৌনে দশটার দিকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নগরের ময়লাপোতা মোড়ের কাছে ১৭ তলা হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, গত ০১ অক্টোবর রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও উক্ত ঘটনার সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর কোনো সম্পর্ক নেই।
অর্থাৎ, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গত জুন মাসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটির ভিডিওকে সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনার দৃশ্য বলে প্রচার করা হচ্ছে।
