কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আলোচিত টিম ‘র’ (RAW) ও ‘ক্রাইম সেটআপ’ (Crime Setup) গ্যাংয়ের নেতৃত্বস্থানীয় ৪ শীর্ষ সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন থানায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে খুন, ছিনতাই ও মাদক কারবারসহ গুরুতর একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ ও মামলা রয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু করে গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- ‘টিম র’-এর গ্যাং লিডার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ইমরান হোসেন রতন (১৯)। তার বিরুদ্ধে খুনসহ ৯টি মামলা রয়েছে। একই গ্রুপের অন্যতম লিডার আক্তার হোসেন মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে।
‘ক্রাইম সেটআপ’-এর গ্যাং লিডার আব্দুল করিমের ছেলে মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪)। তার বিরুদ্ধে পূর্বের ১টি মামলা রয়েছে। অন্যজন একই গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ নেতা নাসির উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)। তার বিরুদ্ধেও ১টি মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে সন্দেহজনক দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
বর্তমান সময়ে উঠতি বয়সী কিশোরা মাদকসেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মোটরসাইকেল মহড়া থেকে শুরু করে খুনের মতো নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। কুমিল্লা জেলাতেও সাম্প্রতিক সময়ে এদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ অস্বস্তিতে পড়েছিল।
পুলিশের ভাষ্য, যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধের পথে ধাবিতকারী কোনো গ্যাং বা গডফাদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই সাঁড়াশি অভিযান জেলা থেকে কিশোর গ্যাং কালচার সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সন্তানদের খোঁজখবর রাখতে এবং তারা কার সঙ্গে মিশছে সে বিষয়ে সচেতন হতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব অভিভাবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধও জানানো হয়েছে।
