খাবারের প্রলোভনে শিশু অপহরণ, কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

পটুয়াখালীর দুমকি থেকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১২ বছরের এক মেয়ে শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠে। আট ঘণ্টা পর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. শাহ জামাল (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)’র সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অভিযুক্ত শাহ জামালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়।  

গ্রেপ্তার শাহ জামালের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী। প্রায় তিন মাস আগে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে অবস্থানকালে ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির মায়ের সঙ্গে শাহ জামালের পরিচয় হয়। দেশে ফেরার পরও তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের কথা বলে গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি শিশুটির বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় শিশুটির বাবাকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দিয়ে পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ি কুমিল্লায় ফেরার কথা বলে ওই বাড়ি থেকে বের হন শাহ জামাল। অভিযোগ অনুযায়ী, বের হওয়ার সময় পরিবারের অগোচরে নিজের দেওয়া মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নিয়ে নেন। পরে খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে ১২ বছরের শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী অটোরিকশা স্ট্যান্ডে নিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের সঙ্গে যেতে বাধ্য করেন তিনি। পরে তাকে দুমকির পাগলার মোড় বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে বাসযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন তারা।

কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শাহ জামালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি দুমকি থানাকে জানানো হয়।

নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। তার নির্দেশে দুমকি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল, পাগলার মোড় ও পায়রা সেতুর টোলপ্লাজাসহ আশপাশের শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটিকে শাহ জামাল নিয়ে গেছে- এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর দুমকি থানার একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবির সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শাহ জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুমকি থানায় মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ জামাল অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সহায়তাকারী জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর