জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের মহামুল্যবান সুন্দরবন রক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ঝড় জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় রক্ষা করে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য সুন্দরবন। শুধু তাই-ই নয়, জীবন-জীবিকা নির্বাহের সীমাহীন সুযোগ সুবিধা দেয় সুন্দরবন।
এ সুন্দরবনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে এমন কোনো কাজ আমাদের করা যাবে না। মৎস্য আহরণে এসে যদি কেউ পলিথিন ব্যবহার বা পলিথিন পোড়ায় তাহলে তার পারমিট বাতিল করা হবে। সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো আপোষ করা হবে না।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রামপাল ওড়াবুনিয়ায় সুন্দরবনের দুবলারচরের জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দুবলাচর ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহম্মেদ।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও পলিথিন মুক্ত সুন্দরবনের বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, এবার সুন্দরবনে কোনো প্লাস্টিক জাতীয় কিছু ব্যবহার করা যাবে না। এবার তিনি দুবলারচরকে মডেল হিসেবে দেখতে চান।
রামপাল জেলে সমিতির উপদেষ্টা আব্দুল হাই শেখের সভাপতিত্বে ও রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান পিয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন- রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, রামপাল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ ফিরোজ কবির, রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো. মোতাছিন ফারাজী, রামপাল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাওলাদার নাসির উদ্দীন, দুবলারচর ফিশারম্যান গ্রুপের সদস্য মো. আব্দুল হক বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে জেলে ইনামুল ইস্থল প্রহরী, তাহের শেখ, আক্তার শেখ ও লিটন মৃধা জানান, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার পরিজন ছেড়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাই। কষ্টর কোনো শেষ নেই। এরপর আছে দস্যু আতঙ্ক। মাঝে মধ্যে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। মুক্তিপণ না দিলে মেলে না মুক্তি। মারধরসহ আছে নানা নির্যাতন। সরকার যদি এগুলো কঠোর হস্তে দমন করতে পারে, তাহলে সুন্দরবন সৌন্দর্যে আরও বিকশিত হবে।
বৈচিত্র্যময় সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষা, পলিথিন মুক্ত ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই উপায়ে মাছ আহরণসহ শীত মৌসুমে সুন্দরবনের দুবলারচরে আগত মৎস্য জীবী জেলেদের জন্য দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যেমন, পরিবেশ ও বন সুরক্ষা স্বার্থে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক, পানির বোতল, কোমল পানীয় বোতল, চিপসের প্যাকেট, চানাচুর প্যাকেট, ওয়ানটাইম খাবার প্লেট এবং পলিথিন ইত্যাদি ব্যবহারে দেওয়া হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
