শরীয়তপুরে শিশু সোয়াইফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অপপ্রচার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

সম্প্রতি, একটি শিশুর লাশের ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে– নিহত শিশুর বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় বিএনপির নেতাকর্মীরা শিশুটিকে জবাই করে হত্যা করেছে। ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক কারণে নয় বরং কথা কাটাকাটির জের ধরে শিশু সোয়াইফ হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে।

বিস্তারিত

অনুসন্ধানে Ataur Rahman নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ০৩ অক্টোবর প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওতে থাকা লাশের চেহারার সাথে আলোচিত ভিডিওতে থাকা লাশের চেহারার মিল রয়েছে। আতাউর রহমান পোস্টে বলেছেন, ঘটনাটি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ১নং ওয়ার্ডের। সোয়াইফ হোসেন পিতা সেলিম সরদার। সকালে নিখোঁজ হয়, দুপুরে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বিডিনিউজের ওয়েবসাইটে একই দিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ০৩ অক্টোবর শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় নিখোঁজের ছয় ঘণ্টা পর তিন বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ পেয়েছে পুলিশ। নিহত সোয়াইফ হোসেন ওই এলাকার সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান। স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আলী আকবর সঙ্গে সেলিম সরদারের পরিবারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। সেই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটিকে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।  

বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সাংবাদিক, সোয়াইফ হোসেনের পিতা সেলিম সরদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশের সাথে কথা বলে কালবেলা।

ডামুড্যা উপজেলার দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আবু আলম বলেন, ‘স্থানীয় জনগণ, নিহত শিশুর পিতামাতা, পুলিশের ভাষ্যমতে ঘটনার আগের দিন শুক্রবার বিকেলে শিশুদের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়৷ সেই ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই। আসামি এবং নিহত শিশু সোয়াইফ হোসেনের পিতা সেলিম সরদার ভ্যানচালক। সেলিম সরদার জামায়াতের সমর্থক। আর আসামিরা মাদকাসক্ত, রাজনীতির সাথে জড়িত নন।’

শিধলকুড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামসুল হক বেপারী বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখানে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই। আগের দিনের ঝগড়া থেকেই এই হত্যাকাণ্ড।’

শিধলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল শেখ বলেন, ‘এখানে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই। যেটি প্রচার করা হচ্ছে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসামিরা, সেলিম সরদার সবাই ভ্যানচালক।’

নিহত শিশু সোয়াইফ হোসেনের পিতা সেলিম সরদার বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি না। আমি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। পেশায় ভ্যানচালক। আসামিরা ভ্যানচালক, মাদকাসক্ত। আগের দিনের কথা কাটাকাটি নিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।’

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, ‘আসলে এই ঘটনায় যারা জড়িত বা যার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে তারা সবাই খুবই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। সবাই পেশায় ভ্যানচালক। আমরা অনুসন্ধানে রাজনৈতিক কোনো ক্লু পাইনি। আমাদের অনুসন্ধান মতে, যে দাবিটি করা হচ্ছে এটি এখন পর্যন্ত ভুয়া বা মিথ্যা।’

অর্থাৎ, নিহত শিশু সোয়াইফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের সাথে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন