চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ চন্দনা রানী শীলের (২২) হত্যার ঘটনায় তার স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি ৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি জমির আইল থেকে চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুই হাত কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
এসআরবি-৭ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে শিমুল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পীযুষ শীল ওরফে প্রিতমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বারবকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ফকিরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইলিয়াসকে। নজরুল ও ইলিয়াসকে তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে এসআরবি।
জানা গেছে, নিহত চন্দনা সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বড় কুমিরা এলাকার দিলীপ শীলের ছেলে শিমুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
মামলাও পরিবার সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে চন্দনার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে চন্দনা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজও শুরু করেছিলেন।
মৃত্যুর আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে যৌতুকের টাকা নিয়ে কান্নাকাটি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠান। এর পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় চন্দনার বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। গত ৯ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় চারজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা এ মামলায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
