বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশ্বাস সৌদির

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ-১৭) সাইডলাইনে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি।

রিয়াদে অবস্থানকালে তিনি সৌদি আরবের বিদ্যুৎ বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার নাসের আল কাহতানি, কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং সিইও সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং বিখ্যাত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউ পাওয়ার এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে পৃথক এসব বৈঠক করেন। 

রোববার (১২ অক্টোবর) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ:

সৌদি বিদ্যুৎ বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার নাসের আল কাহতানির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন। 

তিনি এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং রিয়াদ প্রশাসনের পাশে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো শোকবার্তার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন। একই সঙ্গে হামলায় প্রাণ হারানো দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দ্রুত স্বদেশে প্রেরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশ্বাস:

বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার প্রেক্ষিতে সৌদি সরকারের কাছে বিশেষ সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। জবাবে সৌদি অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার উল্লেখ করেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময়ই সৌদি আরবের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। 

তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সৌদি সরকারের চলমান সহায়তা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের ‘জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০’ অর্জনে সহযোগিতার নানা দিক পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধি বিনিময় এবং একটি সুনির্দিষ্ট ‘সমঝোতা কাঠামো’ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন সৌদি মন্ত্রী। 

বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ, বাংলাদেশে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং অফশোর ও অনশোর অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে সৌদি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কাতার ও অ্যাকওয়া পাওয়ারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা: 

কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির শীর্ষ কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে আয়োজিত পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা, বিদ্যমান এলএনজি আমদানি পরিস্থিতি ও নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সুযোগ নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। 

কাতার-এনার্জির আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও থেকে এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং উৎসের বৈচিত্র্যায়ণের বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হয়। বাণিজ্য ও কারিগরি দলগুলোর আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা।

দিনের শেষ বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ ও সৌর সংস্থা এসিডব্লিউ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহান বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বৃহৎ বিনিয়োগের প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন