ভূঞাপুরে ওসির বিরুদ্ধে ট্রাক ছাড়তে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। ঘাটাইলের ব্যবসায়ী মো. রিপন খন্দকারের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র ও বালি কেনার রশিদ থাকার পরও ট্রাক আটকে রেখে টাকা দাবি করেন ওসি। টাকা না দেওয়ায় পরে ট্রাকটির বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি দাবি করেছেন, নিয়ম লঙ্ঘন করায় আইনগত প্রক্রিয়ায় ট্রাকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর ভূঞাপুরের একটি বালুঘাট থেকে রশিদের মাধ্যমে ১০ চাকার একটি ড্রাম ট্রাকে প্লাস্টার বালি কেনেন রিপন খন্দকার। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ট্রাকটি ছাব্বিশা রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে ওসি রেজাউল করিম সেটি আটক করে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে ট্রাকের মালিক থানায় গিয়ে কাগজপত্র ও বালি কেনার রশিদ দেখানোর কথা বললেও ট্রাকটি ছাড়তে রাজি হননি ওসি।

রিপন খন্দকারের অভিযোগ, ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন ওসি। টাকা না দিলে ট্রাক আটক রেখে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়। পরদিন ৫ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত অনুরোধ করেও ট্রাকটি ছাড়াতে পারেননি তিনি।

রিপন খন্দকার বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষিত বেকার যুবক। এই ট্রাকের ভাড়ার আয়ই আমার সংসার চালানোর একমাত্র সম্বল। বৈধ কাগজপত্র ও বালি কেনার রশিদ থাকার পরও ওসি বলেন, ড্রাম ট্রাক মানেই অবৈধ ভিটি বালি। পরে ট্রাক ছাড়তে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।’

ট্রাকচালক শফিকুল ইসলামও জানান, ৪ অক্টোবর রাতে বালি নিয়ে ফেরার পথে ছাব্বিশা এলাকা থেকে ওসি নিজে ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘুষের টাকা না পেয়ে ওসি টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশকে খবর দিয়ে ট্রাকটির বিরুদ্ধে মামলা করান। তবে মামলার নথিতে আটকের সময় নিয়ে অসংগতি রয়েছে। ট্রাকটি ৪ অক্টোবর রাতে আটক করা হলেও মামলার নথিতে সময় উল্লেখ করা হয়েছে ৫ অক্টোবর বিকেল। একইভাবে, ট্রাকটি ছাব্বিশা রেলগেট এলাকা থেকে আটক করা হলেও মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে টাঙ্গাইলের নিরালা মোড়।

অন্যদিকে, ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভূঞাপুর থানার ওসি রেজাউল করিম। তার দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাকে ৪০০ ঘনফুটের বেশি বালি ও মাটি বহন নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকে প্রায় ৭০০ ঘনফুট বালি বহন করা হচ্ছিল। ট্রাকটির মালিক বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি।

ওসি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাফিক বিভাগকে অবহিত করে ট্রাকটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করা হয়নি। ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর