হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সী নবজাতক ছেলে শিশুকে চুরি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। 

চুরি হওয়া শিশুটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।

শিশুটির পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসব ব্যথা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয় মরিয়মকে। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। বিয়ের তিন বছর পর প্রথম পুত্রসন্তান হওয়াই পরিবারটি অনেক খুশি ছিল। তবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অজ্ঞাত এক নারী রোগীর স্বজনের ছদ্মবেশ ধরে মরিয়ম ও তার মায়ের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে। এর কিছুক্ষণ পর নবজাতক শিশুটির মায়ের ব্যথা অনুভব হলে ওই নারী সহযোগীতার কথা বলে শিশুটিকে কোলে নেয়।

পরে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে গেটের কাছে যায়। এ সময় মরিয়ম রুমের ভেতর আসতে বলে কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ওই নারী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হাসপাতালে এসে তদন্ত করে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে। 

নবজাতক শিশুটির নানি মমতাজ বেগম জানান, দুপুরে ওই অজ্ঞাত নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে কর্তাবার্তা শুরু করেন। একপর্যায়ে মরিয়মের পেট ব্যথা শুরু হলে শিশুটিকে কোলে নিয়ে চলে যায়।

শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্র সন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটি চুরি করে নিয়ে গেছে। আল্লাহ জানে আমার শিশুটি কেমন আছে। আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রুত উদ্ধার করে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়।’ 

শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সরকারি হাসপাতাল থেকে এভাবে শিশু চুরি হয়ে যাবে এটা কি করে হয়। এখানে নিরাপত্তা কোথায়। এই ঘটনায় অন্যান্য রোগীদের মাঝেও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও ভালো নয়। পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আমি যেন দ্রুত আমার সন্তানকে ফেরত পাই।’ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘হাসপাতালে সব সময় রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের লোকজনদের অসচেতনতায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সার্বক্ষণিক আনসার নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হয়। সিসিটিভিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন সিসিটিভির জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে আবেদন দেওয়া আছে।’ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ভিকটিমের পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্তসহ শিশুটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন