খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৬৬৫৩ শূন্যপদ পূরণের সুপারিশ স্থায়ী কমিটির

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়টির জনবল ঘাটতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ ফাঁকা রয়েছে।

এ বিষয়ে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্যপদগুলো পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মো. আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

আলোচ্যসূচি অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ অধিদপ্তর এবং সংস্থাগুলোর কার্যাবলী সম্পর্কে জানানো হয়।

অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। এক্ষেত্রে কৃষি জমির পরিমাণ সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে কৃষি জমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

কমিটির সদস্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেতন। এ লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি শিশু খাদ্যসহ সব খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে যাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে সেজন্য এ প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্টসহ শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি অফিসে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যের ভেজাল মনিটরিং করার জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহ করার কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়। নীতিমালা প্রণয়ন হলে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।’

খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণে ত্রুটি যাতে না থাকে, সে লক্ষ্যে উপকারভোগী নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া অনুসরণের সুপারিশ করেন তিনি। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে কমিটির সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মো. আবু তালেব মন্ডল, মো. আব্দুল করিম এবং শামছুন্নাহার বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন