বিসিবির পথেই কি বিওএ!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

মঙ্গলবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) দপ্তরে আচমকাই এসে পড়ল তিনটি চিঠি। এক্সিকিউটিভ বডি থেকে পদত্যাগের আবেদন করেছেন এক সহসভাপতি ও দুই সদস্য। গত নভেম্বরে নির্বাচন হলো, বছর না ঘুরতেই ভাঙনের সুর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। তবে কি বিসিবির পথেই হাঁটছে বিওএ!

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি শারওয়াত সিরাজ শুক্লা সহসভাপতির পদ ছেড়েছেন। কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত’ শব্দ বসিয়েছেন সাবেক ফুটবলার রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির এবং জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান। কিন্তু কেন? এই ‘কেন’র উত্তর কেউ দেননি। কেউ শুধু বলছেন, আরও অনেকে পদত্যাগ করছেন বা করতে চাইছেন। সবার কারণই নাকি ব্যক্তিগত। তার বেশি কিছু বলতে নারাজ তারা।

ব্যক্তিগত কারণ যে এত সমান্তরালে, একই সুরে বাজে, সেটাই তো সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন। গুঞ্জনের মেঘ আরও ঘন। আরও কয়েকজনের পদত্যাগের কানাঘুষা চলছে। স্টেডিয়াম পাড়ায় কান পাতলেই এক কথা, বিসিবির সেই চেনা চিত্রনাট্য কি এবার বিওএতেও মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে? বুলবুলের কমিটি থেকে একের পর এক সদস্য সরে যাওয়ার পর ঠিক এভাবেই তো গঠিত হয়েছিল অ্যাডহক কমিটি। বিওএ-তে কি একই হাওয়া বইবে!

এ প্রশ্নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আপাতত সতর্ক। সংস্থার দায়িত্বশীলদের ভাষ্য, পদত্যাগের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। নীরবতার আড়ালে নজরদারির আভাস স্পষ্ট। এনএসসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন একটি নির্বাচিত কমিটি। তাই নিয়ম মেনে যা হওয়ার, তা-ই হবে। কিন্তু তার পরই এলো আসল বার্তা। বিওএর কাজকর্ম ও পারফরম্যান্স এখন মূল্যায়নের টেবিলে। কারণ দিনের শেষে দেশের ক্রীড়া কার্যক্রম তো অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এনএসসি চায়, বিওএ আরেকটু স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করুক এবং দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলুক। কথাগুলো ভদ্র, ভাষা সংযত। তবু সংযত ভাষার ভাঁজে জমে আছে অস্বস্তির সংকেত। স্বচ্ছতা আর সমন্বয়ের দাবি যখন ওপর থেকে আসে, নিচের মহলে তখন কান খাড়া হয়ে ওঠে।

এবার আসন্ন নির্বাহী সভার দিকে চোখ। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে চায় বিওএর বর্তমান কমিটি, তার বিকল্পও নেই। কারণ কোনো জাতীয় অলিম্পিক কমিটির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এখতিয়ার নেই খোদ সেই দেশের সরকারেরও। সেটা করা হলে সাসপেনশনের খড়্গ নামবে।

ইতিহাস বলে, এ ধরনের ভাঙন কখনো একদিনে হয় না। প্রথমে আসে একটি চিঠি, তারপর দুটি, তারপর আসে নীরবতা। আর সেই নীরবতা ভাঙে এক নতুন কমিটির ঘোষণায়। বিওএর ক্ষেত্রে সেই শেষ অঙ্ক এখনো লেখা হয়নি। কিন্তু প্রথম অঙ্কের পর্দা যে উঠে গেছে, তাতে সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন