বিএনপিতে যেভাবে উত্থান সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়া এলিজা জামানের

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

পিরোজপুরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এলিজা জামান। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ১৯৯৬ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর দলীয় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন তিনি। রাজনীতি করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। এবার বিএনপির মনোনয়নে জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান। তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার খবর প্রকাশের পর পিরোজপুরসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এলিজা জামান কালবেলাকে বলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছি। আমার বাবা ১৯৬৫ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আমি ১৯৯৬ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হই।

তিনি বলেন, ১/১১ থেকে রাজপথের আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছি। মহিলা দলের হয়ে প্রায় সব হরতাল-মিছিলে ছিলাম। বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখন পর্যন্ত দুবার কারাগারে গিয়ে ৭-৮ মাস জেলে থেকেছি।

রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা

এলিজা জামানের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামে। তার বাবা সরদার সুলতান মাহমুদ কনভেনশন মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বাবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হলেও পরবর্তী সময়ে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এলিজা জামান।

১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে

১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এলিজা জামান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নির্বাচনি রাজনীতিতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এলিজা জামান। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজনীতি করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ

বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে এলিজা জামানকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এখন পর্যন্ত দুবার কারাগারে গিয়ে ৭-৮ মাস জেলে থাকতে হয়েছে তাকে।

রাজনীতির বাইরেও দায়িত্ব পালন

রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বেও ছিলেন এলিজা জামান। ২০০৩ সালে জাতীয় মহিলা সংস্থার পিরোজপুর জেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই বছর শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক পান। পরের বছর সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

দলীয় পদে দায়িত্ব পালন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর