যমুনা সেতুর সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়ে সেতু সচিবের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

যমুনা সেতুর চলমান সংস্কারকাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। বিশেষ করে ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের আগেই সেতুর ডেক পুনর্বিন্যাস ও সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) চীনের ৩টি নির্মাণপ্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি), চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) এবং দ্য সেকেন্ড হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (এসএইচইসি) বাংলাদেশ সফররত ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তাগিদ দেন।

বৈঠকে যমুনা সেতুর পট বিয়ারিং ও ভূমিকম্প প্রতিরোধক যন্ত্র প্রতিস্থাপন, অব্যবহৃত রেললাইন অপসারণ, সেতুর ডেক পুনর্বিন্যাস এবং সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, সিসিসিসি-এসএইচইসি-সিআরবিসি যৌথভাবে যমুনা সেতুর পট বিয়ারিং ও ভূমিকম্প প্রতিরোধক যন্ত্র প্রতিস্থাপনের কাজ করছে। সেতুর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এ কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সেতু বিভাগের সচিব। এক্ষেত্রে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানান তিনি।

অন্যদিকে, সিসিসিসি-সিআরবিসি যৌথভাবে সেতুর অব্যবহৃত রেললাইন অপসারণ, ডেক পুনর্বিন্যাস ও সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে। কাজটি সম্পন্ন হলে সেতুর বর্তমান সীমিত প্রস্থের চার লেনের সড়ক মানসম্মত চার লেনে উন্নীত হবে। এতে সেতুর সড়ক ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

বিশেষ করে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইইউটি-ডেভকন-জেভির পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেন সেতু বিভাগের সচিব। পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান বজায় রাখা এবং কাজের গতি বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলমান কাজগুলো শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা জানান, নির্ধারিত সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় সেতু বিভাগের সচিব কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সময়মতো বাস্তবায়নের বিষয়ে তার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর