ইনফান্তিনোর সঙ্গে জর্ডান ফুটবল সভাপতির সংকট গড়াচ্ছে আদালতে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ এএম

এশিয়ান ফুটবলে লেগেছে বড় ধাক্কা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলায় জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইনকে নিজেদের বিচারিক সংস্থায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। প্রিন্স আলীর দাবি, ইনফান্তিনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এএফসির কংগ্রেসকে ব্যবহার করেছেন এবং পুরো আয়োজনটিকে একটি ‘নাটক’ বা লোক দেখানো অনুষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে গোলডটকম জানিয়েছে, গত শুক্রবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত এএফসির সাধারণ সভা শেষে প্রিন্স আলীর এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে তাকে উপযুক্ত বিচারিক কমিটির কাছে পাঠাচ্ছে এএফসি।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খালিফা ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, এশিয়া এখন একাট্টা হয়ে ইনফান্তিনোর পেছনে দাঁড়িয়েছে।

এই নাটকীয় মোড় বেশ চমকপ্রদ। কারণ, মাত্র তিন মাস আগেই বাতিল হয়ে যাওয়া ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ কোম্পানির প্রস্তাবে ফিফা টুর্নামেন্টের শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল স্বয়ং এএফসি। ফলে বর্তমানের এই আকস্মিক সখ্যতা যেমন চমকপ্রদ, তেমনই বিতর্কিত।

এর পরপরই এক বোমা ফাটান প্রিন্স আলী। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসে কাউকে কথা বলতে, প্রশ্ন তুলতে, বিতর্ক করতে কিংবা গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সমাপনী দিনটিকে কেবলই একটি রাজনৈতিক প্রদর্শনী বলে আখ্যা দেন তিনি।

প্রিন্স আলীর এমন অভিযোগে কালক্ষেপণ না করে কড়া জবাব দিয়েছে এএফসি। এক বিবৃতিতে জর্ডান ফুটবল সভাপতির দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রিন্স আলী কিংবা অন্য কোনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি সভার মাঝে কথা বলার জন্য অনুরোধই জানাননি। পাশাপাশি কংগ্রেস পরিচালনায় অনিয়মের যেকোনো ইঙ্গিতও তারা উড়িয়ে দিয়েছে।

বিবৃতিতে এএফসি উল্লেখ করে, জোরজবরদস্তি, হুমকি কিংবা ঘুষ লেনদেনের মতো বিষয় নিয়ে প্রমাণহীন অভিযোগকে এএফসি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ তুলতে হলে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকতে হবে, কোনো ভিত্তি ছাড়া মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেই অনুযায়ী, জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দেওয়া বক্তব্য ও অভিযোগগুলো এএফসির বিধিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক সংস্থায় পাঠানো হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, ফিফা সভাপতির ওপর প্রিন্স আলীর আক্রমণ এবারই প্রথম নয়। গত বছরের আগস্টেও তিনি ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ এনেছিলেন। প্রিন্স আলীর দাবি ছিল, রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে জর্ডানের ফুটবল সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল ফিফা। 

সূত্র: গোলডটকম। 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর