সংস্করণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে মানসিকতাও বদলাচ্ছে বাংলাদেশের। সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা পেছনে ফেলে লাল বলের ক্রিকেটে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। গত আট টেস্টে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের পর সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যেও টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে এতেই সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দলকে আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি। তার চোখে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামনে এখনো অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ।
একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল সাদা বলের ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে অনাগ্রহও ছিল অনেকের। তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। এখন টেস্ট সিরিজের জন্য অপেক্ষায় থাকেন ক্রিকেটাররাও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই পরিবর্তনের কথাই তুলে ধরেছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘ডারউইন টেস্ট জেতার পর খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তার আগে থেকেই আমার মনে হয়, খেলোয়াড়দের মধ্যে ওই আগ্রহটা অনেকটাই ছিল যে টেস্ট সংস্করণে কীভাবে আমরা আরও ভালো করতে পারি। এই ফরম্যাটটাই খেলতে চাই আসলে। ওইটা জেতার পরে এটা আরও বেড়েছে আমি বলব। পাশাপাশি এই যে টেস্ট ম্যাচ কখন আসবে, কখন আমরা খেলব, এই জিনিসটাও আমি দেখি যে খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেক বেড়েছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই উন্নতির ছাপ দেখা গেছে। কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতাও আগের চেয়ে দৃশ্যমান। তবে এই অর্জনেই থেমে থাকতে চান না শান্ত। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভালো করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তিনি বলেন, ‘এই সংস্করণে অনেক ভালো করার সুযোগ আছে। যেভাবে আমরা খেলোয়াড়রা চিন্তা করছি, আমরা ভালো করছি, কিন্তু আমরা এখনো খুশি নই। আমাদের মনে হয়, এখান থেকে আরও উন্নতির অনেক জায়গা আছে।’
গত কয়েক বছরের সাফল্যের পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না বাংলাদেশের অধিনায়ক। বরং নিজেদের ঘাটতি চিহ্নিত করে আরও ভালো করার দিকেই মনোযোগ দিতে চান তারা। তার ভাষায়, ‘খেলোয়াড়দের পা এখনো মাটিতেই আছে। আমরা কীভাবে আরও ভালো করতে পারি, খুব বেশি উচ্ছ্বসিত না হয়ে সেটাই ভাবছি। যতটুকু অর্জন করেছি, আমার মনে হয় না এটা যথেষ্ট। আমাদের মধ্যে আরও উন্নতি করার সামর্থ্য আছে।’ টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বৃদ্ধিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শান্ত। একসময় যে সংস্করণ নিয়ে দর্শকদের অপেক্ষা তুলনামূলক কম ছিল, এখন সেটি নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ক্রিকেটারদের জন্য এই আগ্রহ বাড়তি অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন তিনি, ‘এটা খুবই আনন্দের বিষয় আমাদের কাছে। আমার মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সবাই অপেক্ষা করে, টেস্ট ক্রিকেট দেখে, টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে। আমার মনে হয়, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা।’ টেস্টে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় লক্ষ্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা কাজে লাগানো। তবে সেই সমীকরণ নিয়ে এখনই বেশি দূর ভাবতে চান না শান্তরা। একেকটি ম্যাচ ধরে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই তাদের পরিকল্পনা।
