পদোন্নতিজনিত জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান ৩৮তম বিসিএসের শিক্ষকরা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজনিত জটিলতা নিরসন ও পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তারা। 

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য সকলের পদোন্নতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার কারণে পেশাগত বৈষম্য, পদোন্নতির জটিলতা ও কর্মজীবনে স্থবিরতা নিরসনে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারা এই স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্যাডার। এ ক্যাডারের কর্মকর্তারা দেশের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিজনিত জটিলতা ও পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টির অভাবে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলা হয়, অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা লক্ষ্য করা যায়। অথচ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও কর্মপ্রেরণায় উজ্জীবিত শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সমস্যা সমাধানে স্মারকলিপিতে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা, নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আয়োজন, শিক্ষা ক্যাডারে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও পদস্বল্পতার কারণে তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। 

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাদের মতে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা কেবল ব্যক্তিগত বা পেশাগত দাবি নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির যৌক্তিকতা উত্থাপন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন, উপ-পরিচালক (সরকারি কলেজ-১) প্রফেসর মো. নুরুল হক সিকদারসহ ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা।

মহাপরিচালক ও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল তাদের দাবি শোনেন এবং তা বাস্তবায়নে উপর মহলে দাবি পৌঁছে দেওয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন