স্প্যানিশ স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) এফসি অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক হেসুস ওভোনোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মারা যান তিনি। এই ঘটনায় স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ একটি তদন্ত শুরু করেছে।
গত সোমবার লা লিগা দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে মাঝমাঠের দে মিগেলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর লাল কার্ড দেখেন গোলরক্ষক ওভোনো। সংঘর্ষের পর ওই স্ট্রাইকার হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে দে মিগেলের স্নায়বিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত ৩০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই মৃত্যুর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল পুলিশ। তবে সান্তা ক্রুজ দে তেনেরিফের প্রধান কৌঁসুলী হোসে লুইস সানচেজ-জাউরেগি বার্তা সংস্থা ইএফই-কে জানিয়েছেন, ওভোনোর বিরুদ্ধে মামলাটি ফৌজদারি পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
সানচেজ-জাউরেগি আরও জানান, সাধারণত কোনো ক্রীড়া ইভেন্টের সময় ঘটে যাওয়া আঘাত ফৌজদারি দায়বদ্ধতার আওতায় পড়ে না। তবে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য তিনি প্রথমে অপেক্ষা করবেন।
কৌঁসুলী বলেন, রেফারির ম্যাচ রিপোর্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি ওভোনোর ট্যাকলটি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
স্পেনের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উচ্চ আদালত (টিএসজেসি) জানিয়েছে, যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিচারিক তদন্ত শুরু করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
এ ধরনের তদন্ত শুরুর অর্থ এই নয় যে সেখানে কোনো অপরাধের প্রমাণ মিলেছে কিংবা মৃত্যুর জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা হয়েছে।
টিএসজেসি-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো মৃত্যু যা স্বাভাবিক কারণে হয়নি। যাকে ‘জুডিশিয়াল ডেথ’ বা বিচারিক মৃত্যু বলা হয়ে থাকে, তা দুর্ঘটনাজনিত হোক বা অন্য কোনো কারণে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার একটি বিচারিক তদন্ত শুরু হয়, যেমনটি এই ক্ষেত্রেও হয়েছে।
