অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ ব্রিজের ঢালাই, তদন্ত ছাড়াই কাজ শেষ!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

নেত্রকোনার বারহাট্টায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া একটি ব্রিজের বাকি অংশের ঢালাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন ৪ অক্টোবর কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ৭ অক্টোবর ফের ঢালাই করা হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের আগেই কেন এবং কার অনুমতিতে বন্ধ কাজ পুনরায় শুরু করা হলো?

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির নির্মাণকাজে কাদাযুক্ত পাথর ও মরিচাধরা রড ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পর গত ৪ অক্টোবর বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তখন নির্মাণকাজের অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

কাজ বন্ধের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত, নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই কিংবা অনিয়মের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান নিষ্পত্তি ছাড়াই মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ব্রিজটির বাকি অংশের ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এদিন মেসার্স আবির ট্রেডার্সের লোকজনের পাশাপাশি বারহাট্টা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়েদ উল্লাহ এবং স্থানীয় দুই সাংবাদিক মামুন কৌশিক ও রুকনুজ্জামান রুকন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই ব্রিজটির বাকি অংশের ঢালাই শেষ করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, যে কাজ উপজেলা প্রশাসন অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই কাজের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই আবার কীভাবে ঢালাই সম্পন্ন হলো?

আরও প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগের পর নির্মাণসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষা বা গুণগত মান যাচাই করা হয়েছে কি না। হয়ে থাকলে তার ফল কী? আর যদি পরীক্ষা বা তদন্ত না হয়ে থাকে, তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় কাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া হলো?

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে তদন্তের আগেই কাজ শেষ করে দেওয়া হলে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই যেমন কঠিন হবে, তেমনি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও আড়াল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তদন্ত ছাড়াই কাজ শেষ করার বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ের হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। তবে অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটির স্পষ্ট ব্যাখ্যা নিয়ে কাজ করতে হবে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগের তদন্তই যদি না হয়, তাহলে বন্ধ কাজ পুনরায় চালুর অনুমোদন এলো কোথা থেকে? আর তদন্তের আগেই ঢালাই শেষ করে দেওয়ার পেছনে কার দায়?

বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা এবং কাজ পুনরায় অনুমোদনের প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন