চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রিজভী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ এএম

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। বিএনপি সরকার দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চীন-বাংলাদেশ রাজনৈতিক দল প্লাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক এবং বাংলাদেশ-চীন পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।

সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে রিজভী বলেন, আপনাদের এই সফর আমাদের দুই দেশ ও দুই দলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং স্থায়ী অংশীদারত্বকে গভীরভাবে প্রতিফলিত করে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা এবং শান্তি ও উন্নয়নের অভিন্ন প্রত্যয়ের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার সময় তা আরও গতিশীল হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াং ও খালেদা জিয়ার মধ্যকার পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সফরে ১৪টি স্বাক্ষরিত চুক্তি দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বিএনপির লক্ষ্য। এসময় বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি এবং টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যোগ দিয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। এ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সফর, যৌথ অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কে সভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছে এ বন্ধুত্বের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর