বাংলাদেশ ও চীন একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে: জামায়াত সেক্রেটারি

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১১ পিএম

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আদর্শিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশ ও চীন একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল হলে চীনা দূতাবাসের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন; ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, মীর আহমাদ বিন কাসেম, নাজিবুর রহমান মোমেন, নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমদ মাবরুর।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং, ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন ও দূতাবাসের কর্মকর্তা, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে দলের সাথে দলের মতবিনিময়ের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যের ওপর বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন।

চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ গভীর আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করে। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের কার্যক্রম আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে শিক্ষণীয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিজ নিজ আদর্শিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে চাই।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। এ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সফর, যৌথ অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াতে হবে। কারণ আজকের তরুণ নেতৃত্বই আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। তৃতীয়ত, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কে সভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছে এ বন্ধুত্বের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা ও সংকটের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় বিশ লাখ রোহিঙ্গার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলই নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব এক দিনে গড়ে ওঠে না। নিয়মিত যোগাযোগ, আন্তরিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক আস্থার মধ্য দিয়েই তা বিকশিত হয়। এ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে এ আয়োজনের জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর