অনুমতি ছাড়াই কলেজে পশুর হাট বসালেন ছাত্রদল নেতা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না থাকলেও পেশিশক্তি ব্যবহার করে গরুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে। রবিবার (২৪ মে) দুপুরে কলেজ গেটের তিনটি তালা ভেঙে, মাঠে বাঁশের খুঁটি গেড়ে হাট শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরীর অভিযোগ, কলেজের ফটকের তালা ভেঙে মাঠে জোরপূর্বক পশুর হাট বসায় জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমক। তিনি চিলমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানোর কোনো নিয়ম নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার রেজুলেশন পাস হয়।

গত ২০ মে লিখিতভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছিল। কিন্তু সব আইন অমান্য করে জোরপূর্বক মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। প্রশাসনকে জানানোর পর সকালে পুলিশ এসেছিল।

কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই আয়োজকরা গেটের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে বাঁশের খুঁটি পুঁতে গরু-ছাগলের হাট বসায়। আমরা লিখিতভাবে জানানোর পরও প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না।

অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা চমকের দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেন, তারা হাটের জন্য আবেদন করেছিল, কিন্তু কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আমরা জেলা প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি দিইনি। অধ্যক্ষ গেটে তালা দিয়ে রাখার পরও সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি চিলমারীর ইউএনও-কে নির্দেশ দিয়েছি।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জিহাদ ফেরদৌস চমক দাবি, তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হাট বসিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী অস্থায়ী হাটের জন্য আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জামানতের টাকা জমা দিয়েছি। ডিসি অফিসের অনুমতি নিয়েই কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়েছে। সরকারের নিয়ম মেনে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেই এটি করা হয়েছে। তা ছাড়া বহু বছর ধরে ঐতিহ্যগতভাবেই এই মাঠে অস্থায়ী হাট বসে আসছে।

তবে ডিসি অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র গণমাধ্যমকে দেখাতে পারেননি তিনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন